রূপসায় সেলুনের ঘরের মালিকানা দাবি দুই জনের: থানায় অভিযোগ

মোঃ আমিনুল ইসলাম, রূপসা উপজেলা প্রতিনিধিঃ

খুলনা জেলা রূপসায় সরকারী ও মালিকানা জমি দাবি করে দুই মালিকের টানা টানি। থানায় অভিযোগ দায়ের।
দীর্ঘ প্রায় ৩০বছর ধরে ভোগদখলে থাকলেও বর্তমান দখলে বাধা। ঘটনাটি রূপসার শিয়ালী বাজার এলাকায়।
জানা গেছে,উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নে শিয়ালী বাজারে সরকারী রাস্তার পাশে প্রায় ৩০বছর ধরে পিঠাভোগ গ্রামের মৃত হারান সরদারের ছেলে রঞ্জন সরদার ঘর করে সেলুনের কাজ করে আসছে।
ঘরটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কয়েকদিন আগে ঘর মালিক রঞ্জন ইট দিয়ে পাকা ঘর তৈরীর কাজ চলছে।
অপরদিকে উক্ত ঘরটি উপজেলার বামনডাঙ্গা গ্রামের এম এম সাখাওয়াত হোসেনের বলে তিনি দাবি করছেন।
দাবির সূত্র ধরে ঘরের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে জমির মালিক এম এম সাখাওয়াত হোসেন মর্মে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন। সেখানে লেখা রয়েছে শিয়ালী বাজারে ২২ নং শিয়ালী মৌজার এস.এ. ১ নং পৃথক ১/১ নং স্থলে ডি.পি. ১২১৮ নং খতিয়ানে দাগ নং এস.এ, ৪২৯ নং দাগ স্থলে ডি,পি, ১৯২ দাগে ১৫২ একর মধ্যে আম মোক্তারকৃত .০১৭৬ একর দালিলিক জমি সম্পত্তি রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রঞ্জনের বড় ভাই সোনা সরদার প্রায় ৩০বছর আগে প্রথমে শিয়ালী বাজারের ঐখানে সেলুনের দোকান দেয় স্থানীয়দের সহযোগিতায়। তখন বাজারে ৪/৫টি দোকান ছিল মাত্র।
সোনা সরদার বয়সের ভারে তার পক্ষে কাজ করা সম্ভব না বলে তার ছোট ভাই রঞ্জনকে দেয় দোকানটি। সে কাজ করে আসছে। দোকানটি ইট দিয়ে মেরামত করতে চাইলে তখন ৩ ভাগের ২ভাগ কাজ শেষ হলে সাখাওয়াত হোসেন বাধা প্রদান করেন।
এদিকে আরো জানা গেছে, সরকারী(পানি উন্নয়ন বোর্ড) এর জায়গার পাশে মালিকানা জমি ৮/১০বছর আগে ক্রয় করেন সাখাওয়াত হোসেন। সেখানে তিনি দোকান ঘর করে ব‍্যবসা করে আসছেন।
স্থানীয় একাধিক দোকান ব‍্যবসায়ীরা জানায়, আমরা শুনেছি রঞ্জনের ভাই প্রায় ৩০বছর আগে ঐ জমিতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দোকান ঘর করে সেলুনের কাজ করে আসছে।
তাছাড়া সাখাওয়াত হোসেনের জমি
ক্রয়ের বহু আগ থেকে তারা দখল করে দোকান (সেলুন) করে ভোগদখলে আছে। আমরা কখনো শুনেনি এই দোকান সাখাওয়াত হোসেনের। কয়েকদিন ধরে শুনছি তার দোকান। তবে নিমার্ণকৃত ঘরের মধ‍্যে কিছু অংশ জমি সাখাওয়াতের আছে বলে জানা গেছে।
এব‍্যাপার উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে থানা পুলিশ জানায়।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার ভোগদখলীয় রেকডিও সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের লক্ষ্যে রঞ্জন পাকা ঘর নির্মাণ করছে। সে ভাড়া নিয়ে দোকানদারি করে আসছে। আমার অগোচরে পাকা ঘর নির্মাণ শুরু করায় আমি রুপসা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েল করেছি। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিদের অবগত করা হয়েছে।
রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন বলেন, আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারে তৎপর রয়েছি।আমি স্থানীয় পর্যায়ে সমাধানের জন্য চেয়ারম্যান,মেম্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ব্যবস্থা নিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.