গোয়াইনঘাটের জাফলং সীমান্তে যুবদল নেতা কাশেম,জয়দুলের বিরুদ্ধে,পুলিশের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনঃঃ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং-ভারত সীমান্তে  ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুড়ি গ্রামের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিলেট জেলা যুবদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক  আবুল কাশেম ও যুবদল নেতা পরিচয় দানকারী জয়দুলের বিরুদ্ধে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেটের জাফলং-ভারত সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে বিজিবি সদস্যরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে ও থামাতে পারছেনা ।

প্রায় প্রতিদিনই কোটি কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় পন্য আটক করছেন বিজিবি জওয়ানরা। তারপরও স্থানীয় থানা পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় বন্ধ হচ্ছে না চোরাচালান বাণিজ্য ।

পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের ভারত সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ব্যবসার গডফাদার সিলেট জেলা যুবদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক  আবুল কাশেম ও যুবদল নেতা পরিচয় দানকারী জয়দুলের নেতৃত্বে চলছে ভারতীয় চোরাচালান ব্যবসা।

তার সঙ্গে রয়েছে ভারতীয় চোরাচালান ব্যবসায় জড়িত একটি সিন্ডিকেট। ঐ সূত্র মতে,অবৈধ ভারতীয় পণ্য সামগ্রী বাংলাদেশে প্রবেশ করতে কাশেমও জয়দুল বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করছে প্রশাসনের নাম ।

তারা থানা পুলিশ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চোরাকারবারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করছেন।

এখানে চোরাচালান ব্যবসা করতে বাংলাদেশে প্রবেশ এর স্থান হিসেবে জাফলং জিরো পয়েন্ট,সিঁড়ির ঘাট, সাইনবোর্ড, লাল মাটি, আম তলা, সোনা টিলা, তামাবিল স্থলবন্দর, তালতলা, আম স্বপ্ন, নলজুরী হতে জাফলং সীমান্তের সব কয়টি পয়েন্ট ব্যবহার করছে।

 

ভারতীয় চোরাচালান ব্যবসার কাজে কাশেম ও জয়দুলের লাঠিয়াল বাহিনীতে ১৫০ থেকে ২০০জন লোক রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

কাশেম ও জয়দুল বাহিনীর সদস্যরা চোরাচালান ব্যবসার প্রসার ঘটাতে দেশীয় অস্ত্র রাম দা , জিআই পাইপ, লাঠি সোটা নিয়ে এলাকায় মোহড়া দিয়ে নিরীহ অসহায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সবসময় আতংক ছড়াচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

 

জাফলং সীমান্তের চোরাকারবারীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রফা-দফার মাধ্যমে ভারতীয় অবৈধ চোরাচালান মালামাল বাংলাদেশে প্রবেশ করাচ্ছেন কাশেম ও জয়দুল বাহিনীর সদস্যরা।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সীমান্ত এলাকার সচেতন মহল। ভারত থেকে আসা চোরাচালানী পণ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চিনি,কিট, কসমেটিকস, এলাছি ,গুঁড়া মসলা, জিরা, বাসমতি চাল, শাড়ি,  থ্রিপিস,  লেহেঙ্গা,  থান কাপড়,  কমলা,  মাল্টা,  মদ,  ফেনসিডিলসহ সকল প্রকার ভারতীয় পন্য।

 

এসব অবৈধ পন্য সামগ্রী বাংলাদেশ প্রবেশ করে জাফলং সীমান্ত এলাকা চোরাকারবারীদের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে বলে অনেকে অভিমত প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, কাশেম ও জয়দুল বাহিনীর সদস্যরা প্রতিবাদকারিদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে, হুমকি ধামকি দিয়ে এলাকার চোরাচালান ব্যবসা সচল রেখেছে।

 

এবিষয়ে জানতে চোরাচালান ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চোরাকারবারী জয়দুলের মোবাইল ফোনে কল দিলে রিসিভ করে তিনি বলেন–” নিউজ করে কি হবে পূর্বেও বহু্ত নিউজ হয়েছে তাতে কিছু হয়নি, এখনো কিছু হবে না। ” আমরা সব কিছু ম্যনটেইন করে ব্যাবসা করছি।

তিনি আরো বলেন , ‘বর্তমানে চলছে টুকটাক, চলুক, চললে সকলের সাথে যোগাযোগ করবো” বলে ফোন কেটে দেন।

 

এবিষয়ে জানতে ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের বিট অফিসার গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের এস আই ওবায়দুল্লার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি, পরবর্তীতে জাফলংয়ের আরেক চোরাকারবারী এস আই ওবায়দুল্লার পক্ষে ফোন দিয়ে এ প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন।

এবিষয়ে জানতে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) সরকার তোফায়েল আহমদের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজে ফোন রিসিভ না করে অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে ফোন রিসিভ করান, তখন ঐ কর্মকর্তার কাছে  গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) সরকার তোফায়েল আহমদ কোথায় জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান, প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন , পরবর্তীতে একাধিক বার ফোন দেয়া হলেও আর কেউ ফোন রিসিভ করেন নি ।

এ ব্যাপারে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ বলেন, আবুল কাশেম আমাদের জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক এটি সত্য। আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখব । তদন্তে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এদিকে,বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধ চোরাচালান ব্যবসা বন্ধে – চিহ্নিত যুবদল নেতা কাশেম ও চোরাকারবারী জয়দুল ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে প্রশসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিকেরা ।

এ ছাড়া থানা পুলিশেরও এদিকে সু-নজর দেওয়ার জন্য এলাকার অনেকে মত প্রকাশ করেছেন।

 

প্রসঙ্গত গত (২৭শে জানুয়ারি) সোমবার রাত ১২টার দিকে মামার দোকান এলাকার পাশে স্বাদ রেস্টুরেন্ট থেকে জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেমের নেতেৃত্বে ছাত্রদল সভাপতি আজির উদ্দিনকে যুবদল সভাপতির উপস্থিতেই মারধর করে তুলে নিয়ে নলজুড়ি জঙ্গলে ফেলে রাখে।

জানা যায়, জাফলংয়ে পাথর কোয়ারি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দুইটি গ্রুপের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই চলে আসছিল। এর মধ্যে জেলা বিএনপির সহসভাপতি হাকিম চৌধুরী নিয়ন্ত্রণ করছেন অন্য গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ করেন জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ দল থেকে বহিষ্কৃত শাহ আলম স্বপন।

 

কিছুদিন থেকে পাথর কোয়ারি নিয়ে বিবদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরমধ্যে গত সোমবার (২৭শে জানুয়ারি) পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আজির উদ্দিন একটি মিংমাংসা শেষে জাফলংয়ের মামারদোকানে অবস্থিত ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ীক পার্টনারকে নিয়ে স্বাদ রেস্টুরেন্ট যান।

তিনি ওই বিচারে উপস্থিত যুবদল সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহজাহান সিদ্দিক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ খানকে চা খেতে আমন্ত্রণ জানান। আজিরের আমন্ত্রণে সেখানে চা খেতে যান যুবদল সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহজাহান সিদ্দিক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ খান।

একপর্যায়ে জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তিনটি নোহাগাড়ি যোগে এসে একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী ছাত্রদল সভাপতি আজির উদ্দিনকে বেদম মারপিট করে তুলে নিয়ে যায়।

গাড়িতে তুলার পরও আজিরকে মারধর করতে থাকে কাশেম বাহিনী। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় তামাবিল নলজুড়ীর ফরেস্ট বাগানে। সেখানে নিয়ে তার সাথে থাকা ব্যবসার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

 

পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহতবস্থায় আজির উদ্দিনকে উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আজির উদ্দিনকে সিলেট প্রেরণ করেন।

এদিকে ছাত্রদল নেতা আজিরকে অপহরণের খবর পেয়ে মধ্যরাতে জাফলং বাজারে দেয় যুবদল ও ছাত্রদলের অস্ত্রের মহড়া চলে।

এসময় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ছাত্রদল সভাপতি আজির উদ্দিনকে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (২৮শে জানুয়ারি) যুবদল নেতা কাশেম, জয়দুল ও বাবলা লিটনসহ জড়িতের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন ছাত্রদল।