বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ভৌতিক বিল আর ঘুষ বাণিজ্য, চরম দূর্ভোগে কুলাউড়ার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা

মৌলভীবাজার থেকে: কারণে অকারণে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীনতা। ভৌতিক বিল দিয়ে গ্রাহক হয়রানী। গ্রাহকদের সাথে দূর্ব্যবহার। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন কর্মকর্তার দূর্ণীতি আর ঘুষ বাণিজ্যে চরম অতিষ্ট গ্রাহকরা। সংশ্লিষ্টদের উপর এমন নানা গুরুতর অভিযোগ কুলাউড়া (বিপিডিবি) র’ বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের আওতাধীন (বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার) উপকারভোগী গ্রাহকদের। প্রায় দুই মাস থেকে তিন উপজেলার আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সভায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়ে রেজুলেশনও হচ্ছে। বিভিন্ন হাটবাজারে মানববন্ধন,প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচী পালন করে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা ও দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণে আল্টিমেটামও দিচ্ছেন দূর্ভোগগ্রস্থ গ্রাহকরা। কিন্তু তারপরও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্টদের। গ্রাহকরা ক্ষোভের সাথে জানান এসময়ে জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুৎ প্রাপ্তিতে কোনো ঘাটতি নেই। তাছাড়া উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও বির্পযয়ও নেই। তারপরও ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দূর্ভোগে সেবাগ্রহীতা।
ইতিমধ্যে দূর্ভোগগ্রস্থত বিক্ষোব্দ গ্রাহকরা এমন দূরাবস্থার নিরসণে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। যার অনুলিপি দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য,বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ,জেলা প্রশাসক,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের। ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট,ভৌতিক বিল থেকে প্রতিকার ও দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ অন্যতম এই তিন দাবিসহ অন্যান্য দাবিও জানান গ্রাহকরা। লিখিত অভিযোগে গ্রাহকরা জানান চা বাগান,সাদাসোনা খ্যাত রাবার,আগর আতর শিল্প ও সিলেট বিভাগের অন্যতম রাজস্ব প্রদানকারী হাটবাজার অধ্যুষিত নানা শ্রেণী পেশার কর্মজীবী এ তিন উপজেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা এখন বেহাল দশায়। সরকার নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দিতে যখন অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন।“শেখ হাসিনার উদ্যোগ,ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ” এমন পতিপাদ্যেকে সামনে রেখে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তায় সারা দেশের ন্যায় কুলাউড়ার যুব ও তরুণরা অনুপ্রাণিত হয়ে গ্রাম পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসছেন। ঠিক তখনই কুলাউড়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কুচক্রী মহলের ইন্ধনে সরকারের প্রশংসিত উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা অপকৌশলে গ্রাহকদের চরম দূর্ভোগে ফেলছেন। যার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প উদ্যোক্তাদের গঠিত বিভিন্ন খামার,বিশেষ করে পোলট্রি,চা ও রাবার শিল্পের সাথে জড়িত মালিক শ্রমিকরা এখন চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। পবিত্র রমজান মাস জুড়ে বিদ্যুতের এমন ভেল্কিবাজিতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা সেহরী,ইফতার ও তারাবীতে অর্বণীয় দূর্ভোগ পোহান। ঈদের আগে একটানা প্রায় তিন দিন বিদ্যুৎহীন ছিলো পুরো ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়ন। ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার চরম ব্যাঘাত সৃৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন হাট বাজার ও সিলেট বিভাগের অন্যতম রাজস্ব প্রদানকারী ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাজারের ব্যবসায়ীরাও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মহা সংকটে পড়েছেন। কোভেট-১৯ এর পর ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী বিদ্যুতের এমন ভেল্কিবাজির কারণে এখন ব্যবসা চালিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। লিখিত বক্তব্যে তারা জানান মৌলভীবাজারের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম ইকবালের আশ্রয় প্রশ্রয়ে কুলাউড়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী ওসমান গণী,সহকারী প্রকৌশলী মফিজ উদ্দিন খান ও অফিস সহকারী আনছার আলীদের (নানা অপকর্ম ও দূর্ণীতির কারণে পূর্বের কর্মস্থল থেকে গ্রাহকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিতাড়িত) দুর্ণীতি ও ঘুষ বাণিজ্যে ভূগতভোগী গ্রাহকরা এখন দিশেহারা। অভিযুক্তরা নতুন মিটার সংযোগ,মিটার রিডারদের যোগসাজশে মিটার পরিদর্শন না করে ভুতুড়ে বিল প্রদান করে ও মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে নানা কায়দা কৌশলে গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। গ্রাহকদের অভিযোগ ওই কর্মকর্তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে আতাৎ করে নিন্মমানের খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয় ও বাৎসরিক মেরামত জনিত খরচ বাবত বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে গ্রাকদের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দূর্ভোগে ফেলছেন। তাছাড়া অব্যবহ্রত পুড়ে যাওয়া মিটার ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন লাইনে মিটার সংযোগ দেখিয়ে ভুতড়ে বিল দিচ্ছেন। এমন বিলে গ্রাহক বিব্রত হলে মিটার রিডার ও লাইনম্যানদের মাধ্যমে রফাদফা করা হয়। উৎকোচ দিলেই সব সমস্যার সমাধান। ব্যত্যয় হলে মামলার ভয়ভীতি ও মামলা দিয়েও করা হয় হয়রানি। মিটার সংযোগের ফি নিয়ে দীর্ঘ দিনপরও মিটার না দিয়ে মাস শেষে কাগজের বিলের পরিবর্তে মিটার রিডারদের মাধ্যমে নগদ টাকা তোলা হচ্ছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কুলাউড়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ওসমান গণী মানবজমিনকে বলেন গ্রাহকদের আনিত সব অভিযোগ সঠিক নয়। বৈরী আবহাওয়ায় কম লোকবল নিয়ে লাইন মেরামত করে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা দিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন শিগগিরই উত্তর কুলাউড়ায় আরও একটি ৩৩/১১ হাজার কেবির সাবষ্ট্রেশন নির্মাণ হচ্ছে। এটা হলে এই দূর্ভোগ থাকবেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.